ইয়েমেনের নাগরিক তালাল আব্দো মাহদিকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আজ ১৬ জুলাই নিমিশার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তার ২৪ ঘণ্টা আগে এই দণ্ডাদেশ স্থগিত করল ইয়েমেনের বিচার বিভাগ। Nimisha ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ইয়েমেনে ইসলামি শরিয়া আইন প্রচলিত। এ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্বজনরা যদি হত্যার শিকার ওই ব্যক্তির পরিবারের লোকজনদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন— তাহলে আসামির ওপর থেকে অভিযোগ তুলে নিতে পারেন বাদিপক্ষ। সেক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে যায়। ইংরেজিতে ‘ব্লাড মানি’ নামে পরিচিত এই আর্থিক ক্ষতিপূরণকে আরবি ভাষায় বলা হয় দিয়াহ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, নিমিশার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে, বাতিল হয়নি। এই দণ্ডাদেশ বাতিলের পথ এখন একটাই— দিয়াহ। যদি তালাল আব্দো মাহদির পরিবারের সদস্যরা ‘দিয়াহ’ গ্রহণে সম্মত হন— কেবল তাহলেই বেঁচে যেতে পারেন নিমিশা।
কারণ এর আগে ইয়েমেনের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে সফল হননি নিমিশার আইনজীবীরা। তারপর ইয়েমেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহদি আল মাশাতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার করেছিলেন নিমিশা, কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন।
নিমিশাকে বাঁচাতে কয়েক বছর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের স্বজনারা জানিয়েছেন, তারা তালাল আব্দো মাহাদির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত এবং ইতোমধ্যে তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ ডলার জোগাড় করেছেন। তালালের পরিবারের লোকজনদেরকে এ অর্থ অর্থ নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা। ইয়েমেনে তার মামলা পরিচালনার দায়িত্বে আছে ‘সেভ নিমিশা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন কাউন্সিল’ নামের একটি সংস্থা।
সম্পাদক - হুসনে মোবারক
প্রকাশক - মো: ইশতিয়াক আহমেদ