ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ১ জুন থেকে শুরু হওয়া এ ছুটি কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে ৩ জুন থেকে। সামনের কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে দেশে বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।
ছুটি বাড়ছে না এখনই
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আপাতত চলমান ছুটি বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। করোনা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং ছুটি শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসময়ে ক্লাস শুরু হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী—
প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলবে আগামী ২৩ জুন।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলবে ১৯ জুন।
সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলো খুলে গেছে ১৫ জুন, রবিবার।
মাদরাসাগুলোতে ছুটি চলছে টানা ২৫ দিন। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, তিনটি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোর ক্লাস শুরু হবে ২৬ জুন।
করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬ নির্দেশনা
এদিকে করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৬টি নির্দেশনা দিয়েছে। ১৫ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়, নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী—
মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা,
মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা,
ক্লাসরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা,
হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা,
প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা
এবং সংক্রমণ এড়াতে অনলাইন মাধ্যমে সভার আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিস চলাকালীন সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক সভাগুলো অনলাইনে, যেমন জুম অ্যাপে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

