স্বস্তির বৃষ্টির পাশাপাশি রাজধানীবাসীর ভোগান্তি ও নানা সমস্যা প্রতিকারের অনুসন্ধান দেন মাহতাবুল ইসলাম প্রান্ত।
উত্তপ্ত গ্রীষ্মের মাঝে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি যেন প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। গরমে হাঁসফাঁস করা শহরবাসীর মনে এনে দেয় কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় এই বৃষ্টির চেহারাটা যেন একেবারে ভিন্ন। এখানে বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা, যানজট, সড়কের দুরবস্থা এবং চরম দুর্ভোগ।
ঢাকার অনেক এলাকায়—বিশেষ করে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, বাড্ডা প্রভৃতিতে—বৃষ্টির পর রাস্তাগুলো পরিণত হয় খাল-বিলে। অফিসগামী মানুষ, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি সেবার গাড়িও আটকে পড়ে পানির মাঝে।
এই সমস্যার মূল শিকড়টি নিহিত রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়নে। অবৈধভাবে খাল, পুকুর, জলাশয় ভরাট, অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এসবই জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত নয় বছরে ঢাকায় অন্তত ৩,৪৮৩ একর জলাশয় ও নিম্নভূমি ভরাট হয়েছে। বিআইপি’র তথ্য বলছে, ২০১০ সালের ড্যাপ নীতিমালা উপেক্ষা করে ৩৬% জলাশয় ইতোমধ্যেই দখল হয়ে গেছে।
শুধু ভৌত দুর্ভোগই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও বৃষ্টি আনে অস্বস্তি। স্যাঁতস্যাঁতে ও আর্দ্র আবহাওয়ায় চর্মরোগ, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, অ্যালার্জি, হাঁপানি ও সাইনাসজনিত সমস্যা বেড়ে যায়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও হকাররা বৃষ্টির দিনে কাজ হারিয়ে ফেলে। তাদের জীবিকা থমকে যায়। আয় কমে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য।
এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জনসচেতনতা ও কার্যকর শহর পরিকল্পনার মাধ্যমে তা প্রশমিত করা সম্ভব। খাল, পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হতে পারে এর টেকসই সমাধান।
বৃষ্টি তখনই আশীর্বাদ, যখন শহর প্রস্তুত থাকে তা গ্রহণের জন্য। নয়তো সে-ই আশীর্বাদই পরিণত হয় ভোগান্তিতে।
মাহতাবুল ইসলাম প্রান্ত
শিক্ষার্থী,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

